পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া মৌজার দুটি দাগের ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন দুই ব্যক্তি। অথচ তাঁরা ২২ দশমিক ৪৩ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখেছেন। অতিরিক্ত জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার জন্য বলায় প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় মোবারক আলী মাতব্বর পৈতৃক সূত্রে চন্দ্রপাড়া মৌজার ২৮৩ নম্বর খতিয়ানের ৭০২ ও ৭১৫ নম্বর দাগের মোট ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ জমির মালিক। ওই জমি থেকে ১৯৯৭ সালের ১৪ আগস্ট স্থানীয় মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন খান ও তাঁর ছোট ভাই মো. কবির হোসেন খানের কাছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। মোবারক আলী তখন ওই জমি ক্রেতা দুই ভাইকে বুঝিয়ে দেন। পরে মোসলেম উদ্দিন ও কবির হোসেন সুকৌশলে ৭১৫ নম্বর দাগের ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ৭০২ নম্বর দাগের ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে মোবারক আলীর সঙ্গে মোসলেম উদ্দিন ও কবির হোসেনের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
মোবারক আলীর জ্যেষ্ঠ ছেলে মো. আলাউদ্দিন মাতব্বর বলেন, ২০০৪ সালে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁরা স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মোসলেম উদ্দিন ও কবির হোসেনকে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জমি রেখে বাকি জমি ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর থেকে তাঁদের (আলাউদ্দিন) পরিবারের শিশু ছাড়া সব সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ এনে তিনটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব মামলায় তাঁদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়।
আলাউদ্দিন মাতব্বরের ছেলে মো. মনির মাতব্বর বলেন, তিনি ঢাকায় থাকেন। জমির অধিকার চাওয়ায় সাজানো ঘটনায় একের পর এক মামলায় তাঁকে আসামি করা হচ্ছে। এমনকি একটি সাজানো মামলায় তাঁকে ১৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।
এসব বিষয়ে মোসলেম উদ্দিন বলেন, আগে তাঁরা (আলাউদ্দিন) মামলা করায় তিনি (মোসলেম) পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে তিনি ও তাঁর ভাই অতিরিক্ত জমি দখল করেননি বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে আলাউদ্দিন বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের কেউ মোসলেম উদ্দিন ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেননি।









