বিপিএ স্টুডেন্ট’স উইং অব জাস্টের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নবনির্বাচিত বিপিএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়।
বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি) আইন, পেশাগত নিবন্ধন, উচ্চশিক্ষা এবং বাংলাদেশের ফিজিওথেরাপি পেশার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগে এক বিশেষ সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিপিএ স্টুডেন্ট’স উইং অব জাস্ট-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বিআরসির কার্যক্রম, পেশাগত নিবন্ধনের গুরুত্ব, ফিজিওথেরাপি শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশার সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) নবম কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগের তিনজন শিক্ষক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ায় এ আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ উপলক্ষে বিপিএর নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা বিভাগে উপস্থিত হয়ে ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (বিপিটিআর) ও মাস্টার অব ফিজিওথেরাপি (এমপিটি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময়ে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, পেশাগত স্বীকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির সুযোগ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। বিপিএর নেতৃবৃন্দ এসব বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং দক্ষ, নৈতিক ও গবেষণামুখী ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পেশাগত স্বীকৃতি আরও সুসংহত হওয়ার ফলে এ খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ও কর্মক্ষেত্র ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের অংশ হিসেবে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে সেমিনার ও মতবিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়ইতলায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘চাঁদের আলোয় ভোজন’-এর আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিপিএর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। অনানুষ্ঠানিক এ আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বন্ধন এবং পেশাগত ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এ আয়োজন তাদেরকে ফিজিওথেরাপি পেশার উন্নয়ন ও নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।








