শিক্ষার আলো ছড়াতে স্কুল প্রয়োজন, কিন্তু সেই স্কুল যদি হয় যুব সমাজের খেলার মাঠ দখল করে। আজ আমরা এমন একটি পরিস্থিতির কথা বলব, যেখানে নিজস্ব দুটি ভবন থাকা সত্ত্বেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে জয়মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে দুটি ভবন থাকা সত্ত্বেও জয়মনি ৩টি ওয়ার্ডের একমাত্র মাঠটি নষ্ট করে নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যালয়টির একমাত্র খেলার মাঠটি বিলীন হতে চলেছে। অথচ দুটি স্কুলের যে কোন একটি ভেঙ্গে ওখানে করার পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন মাঠটিকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমাদের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলা করার কোনো জায়গা নেই। এই মাঠটিই তাদের একমাত্র ভরসা। স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি এই মাঠে ভবন নির্মাণ করে, তবে শিশুরা কোথায় খেলবে? আমরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ আমাদের কথা শুনছে না। মাঠের উপর ভবন নির্মাণ করা হলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কোনো সুযোগই আর অবশিষ্ট থাকবে না কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এবং যুব সমাজের। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের দাবি, মাঠ ঠিক রেখে দুটি ভবনের একটি ভেঙে ওখানে স্কুল করা হোক।
বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং যুবসমাজের জন্য খেলার মাঠ কতটা জরুরি, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। এই একমাত্র মাঠটি যদি ধ্বংস করা হয়। তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং যুব সমাজ মাদক, অনলাইন জুয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যায়ের পথে ধাবিত হবে। শিক্ষার্থীদের ও যুব সমাজের খেলার মাঠ দখল করে ভবন নির্মাণ শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করার পরিবর্তে উল্টো বাধাগ্রস্ত করবে বলেই মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবিঅবিলম্বে মাঠ দখলমুক্ত রেখে বিকল্প স্থানে নতুন পুরনো দুটি ভবনের একটি ভেঙে ভবন নির্মাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
পরিবেশ জলবায়ু ও বন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম যেন যুব সমাজকে মাদক মুখী, অনলাইন জুয়া থেকে বাঁচাতে তিনি যেন এই মাঠটি রক্ষা করেন।








