বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) জয়মনি ওয়াইল্ড টিমের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থ স্কাউট সদস্যরা অংশ নেন। সুন্দরবনের চারপাশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব, বন সংরক্ষণে নাগরিক দায়িত্ব, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জয়মনি এলাকার সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয় ও নদীতীরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য অপসারণের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। একে রক্ষা করতে হলে নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই প্রশিক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, আর্থ স্কাউটদের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের এই উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সুন্দরবনকে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে তারা নিজেদের পাশাপাশি বন্ধু, পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবেন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ওয়াইল্ড টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে মোংলা উপজেলার ১৫টি বিদ্যালয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে আর্থ স্কাউটদের বিশেষ কর্মদক্ষতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ ব্যাজ প্রদান করা হয়। আয়োজকদের বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।









