“বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান…” বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিখ্যাত গানের বাণী মনে করিয়ে দিয়ে প্রকৃতিতে আবার এসেছে বর্ষা। আর বর্ষার এই আগমনী বার্তার সবচেয়ে বড় স্মারক হয়ে ফুটেছে নিটোল গোলকাকার, হলদে-সাদা রঙের কদমফুল।
আষাঢ়ের শুরুতেই গ্রাম-বাংলার মেঠোপথ থেকে শুরু করে ইটের শহর ঢাকার আনাচে-কানাচে কদম গাছগুলো সেজেছে এক অপরূপ সাজে। ধুলাবালি মলিন প্রকৃতির বুকে বৃষ্টির প্রথম ছোঁয়া লাগতেই কদম গাছগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে শত শত কদমফুল, যা পথচারীদের চোখ ও মন জুড়িয়ে দিচ্ছে।
কদমফুল কেবল বর্ষার প্রতীকই নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক গভীর আবেগের নাম। ফুলটির সুবাস ও রূপ যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
বর্ষার প্রথম বৃষ্টির পর ফুটপাতে বা ট্রাফিক সিগন্যালে ছোট ছোট শিশুদের কদমফুল বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে বা প্রিয়জনকে উপহার দিতে কিনে নিচ্ছেন এই ফুল। রিকশায় চড়ে হাতে কদমফুল নিয়ে বর্ষা উপভোগ করার দৃশ্য এখন শহরের তরুণ-তরুণীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কদমফুল শুধু সৌন্দর্যের খাতিরেই নয় পাখিকুলে খাদ্য যোগানের গুরু দায়িত্ব ও এই ফুল বহন করে।
তবে উদ্ভিদবিদ ও পরিবেশবাদীরা কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আগের মতো এখন আর যেখানে-সেখানে কদম গাছ চোখ পড়ে না। ঐতিহ্যবাহী এই ফুল ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে কদম গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
প্রকৃতির নিয়ম মেনে ধূসর আকাশ আর রিমঝিম বৃষ্টির সাথে কদমের এই মিতালি নাগরিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে এক পশলা প্রশান্তি বয়ে আনছে। বর্ষার এই রূপ ধরে রাখতে কদমফুলের সৌন্দর্য রক্ষায় আমাদের সবার আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।








