চাটনি বা বিট লবণ দিয়ে কামরাঙা খাওয়া অনেকেরই প্রিয় অভ্যাস। স্বাদে টক-মিষ্টি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও এই ফলটিই অজান্তে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। চিকিৎসকদের মতে, কামরাঙায় থাকা বিশেষ কিছু রাসায়নিক উপাদান আকস্মিক কিডনি বিকল (Acute Kidney Injury) বা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নেপথ্যে দুটি বিষাক্ত উপাদান
কিডনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কামরাঙার মধ্যে প্রধানত দুটি ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা কিডনি ও স্নায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে:
অক্সালিক অ্যাসিড (Oxalic Acid): কামরাঙায় প্রচুর পরিমাণে অক্সালিক অ্যাসিড থাকে। এটি কিডনিতে অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা নালীগুলো আটকে দেয়। ফলে রক্তের বর্জ্য বের হতে না পেরে হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে পড়ে।
ক্যারামবক্সিন (Caramboxin): এটি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন বা স্নায়ুবিষ। সুস্থ কিডনি খুব সহজেই রক্তের এই বিষ ছেঁকে বের করে দেয়, কিন্তু দুর্বল কিডনি এই বিষ নিষ্কাশন করতে পারে না। রক্তে এর মাত্রা বাড়লে তা মস্তিষ্কে পৌঁছে খিঁচুনি বা কোমার মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে।
যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাঁদের আগে থেকেই জানা বা অজানা কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের জন্য কামরাঙা খাওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষও যদি খালি পেটে জুস করে বা একসাথে বেশ কয়েকটি কামরাঙা খেয়ে ফেলেন, তবে তারও আকস্মিকভাবে কিডনি অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিষক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ
কামরাঙা খাওয়ার পর বিষক্রিয়া দেখা দিলে শরীরে কিছু প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়:
১. অনবরত হেঁচকি ওঠা বা বমি ভাব হওয়া।
২. তীব্র পেটে ব্যথা বা কোমর/পিঠের দুই পাশে ব্যথা হওয়া।
৩. পেশির অসাড়তা বা খিঁচুনি শুরু হওয়া।
৪. প্রস্রাব কমে যাওয়া বা রঙ লালচে/ঘোলা হওয়া।
৫. মানসিক বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা এবং পরবর্তীতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া।








