বাগেরহাটে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৩ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২১১ জন। গত ১১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৯ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার নয়টি উপজেলায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সরকারি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি শয্যা রয়েছে। গত চার মাস ধরে এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। সব মিলিয়ে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো নয়।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম জানান, বাগেরহাটের বাইরে গিয়ে কিংবা কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলে তা সরকারি হিসাবের মধ্যে আসে না। জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি হিসাব তৈরি করা হয়। এর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে তা সরকারি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে না। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর উপজেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়া মজুমদার (১৭)। সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাহসপুর গ্রামের এই শিক্ষার্থী গত ২৯ আগস্ট মারা যান। বাগেরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া এলাকার শিক্ষক সুমন সাহা (৩৮) ৩১ আগস্ট এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাসাবাটি গ্রামের ফকির বুজরুক আলী (৮২) ১ সেপ্টেম্বর মারা যান।
কচুয়া উপজেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন নার্সিংয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান (২২)। রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের এই তরুণের মৃত্যু হয় ২৯ আগস্ট। একই উপজেলায় দিগন্ত (১৫) নামের এক কিশোর ১৮ মে, খান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (৫৩) ১৬ আগস্ট এবং গোপালপুর গ্রামের শামসুর রহমান (৭৫) ২৬ মে মারা যান।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (১৮) ২৬ আগস্ট এবং বিষখালী গ্রামের রাধারানী দাস (৪২) ৫ জুন মারা যান।
ফকিরহাট উপজেলায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মো. রমজান আলী মোল্লা (২৩) ২৮ আগস্ট এবং সাতশৈয়া গ্রামের তুলি বেগম (৪৭) ২৬ আগস্ট মারা যান।
এ ছাড়া মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই বছর বয়সী শিশু ইফা আক্তার ১৯ জুলাই মারা যায়।
তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া ১২ জনের মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের পার্থক্য রয়েছে। এসব মৃত্যুর কারণ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।









