মাদারীপুর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের জন্য নিজস্ব জমির মালিকানা নিশ্চিত, খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মাদারীপুর শহরের লেকপার এলাকায় বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে মাদারীপুর শহরের শুকনী মৌজায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও শিক্ষক, কর্মচারী, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ এবং অধ্যক্ষ বিলকিস ফেরদৌসীর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভার্সনে পাঠদান পরিচালিত হওয়ায় প্রতিবছর এ বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করে।
তবে বর্তমানে টিনশেড ভবনে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ও বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি যে জমিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন নয়। জমিটি জেলা প্রশাসকের অধীন হওয়ায় সেখানে স্থায়ী ও বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের নামে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ বা মালিকানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক বহুতল ভবন ও খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তাদের দাবি, সাময়িক সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী জায়গা ও আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি মাদারীপুরের শিক্ষা ব্যবস্থাও আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তারা।









