মাদারীপুরের কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতা বিষয়ে ছাত্রীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হতে চাই না বিয়ের পাত্রী, থাকতে চাই স্কুলছাত্রী এবং আঠারোর আগে বিয়ে নয়, কুড়ির আগে সন্তান নয়’—এমন সচেতনতামূলক স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও বয়ঃসন্ধিকালীন বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) কালকিনি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শ্রেণিকক্ষে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের কালকিনি উন্নয়ন এলাকার উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
প্রশিকা মস্তফাপুর জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক লক্ষণ চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুরেশ চন্দ্র গাইন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি থানার কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুল আলম, প্রশিকার ঢাকা কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) জুলফিকার পুষ্প, সিনিয়র সহকারী পরিচালক অ্যাডভোকেট শারমিন জাহান, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচির বিভাগীয় প্রধান আব্দুস সালাম এবং কর্মসূচি সমন্বয়কারী মাজেদা বেগম।
সভায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে একজন কিশোরী তার শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়তে পারে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ফলে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কিশোরীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এ সময় ব্যক্তিগত অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একটি শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে হবে।
সভায় ছাত্রীদের উদ্দেশে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বয়ঃসন্ধিকালে বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন এবং যেকোনো সমস্যায় পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।









