মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগুরিয়ায় অবস্থিত আল খিদমাহ ইন্টারন্যাশনাল প্রি-ক্যাডেট একাডেমির উদ্যোগে প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পবিত্র কুরআন শরিফের সবক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে নৈতিকতা, সততা ও সুন্দর চরিত্র গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জাহানদার আলী জাহান (এমপি)। একাডেমির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হযরত মাওলানা সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ (দা.বা.)। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান গওহারী (দা.বা.)।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর ফরাজী এবং সরকারি শিক্ষক আল-মামুন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাহানদার আলী জাহান বলেন, আমরা মুসলমান, আর কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাই আমাদের মূল পরিচয়। শিশুদের মনে শৈশব থেকেই এই শিক্ষা ও আদর্শ গেঁথে দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না, পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে গড়ে তুলতে হবে। শৈশব থেকেই পবিত্র কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করলে শিশুদের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ, সততা ও দায়িত্বশীলতা বিকশিত হবে। তাই শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একাডেমির শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আরবি, ইংরেজি ও বাংলা—তিনটি ভাষায় যেভাবে পারদর্শিতা অর্জন করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিশুদের সঠিক চরিত্র গঠন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে। তাদের সাবলীল পাঠ ও উপস্থাপনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের এই পারদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের উৎসাহিত করতে হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও উপহার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা এবং শিক্ষাজীবনে সাফল্য অর্জনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।
সবশেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।









