পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষক পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মরিয়ম বেগম, ঢাকা উত্তর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন আকন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব শামীম খান, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি দশমিনা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জাফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমানসহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
আলোচনা সভায় শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলেন, সরকারি পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা সরকারের কাছে অবহেলিত। বৈষম্য দূর করার জন্য ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল বাংলাদেশকে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম মূল বাহন। এ আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা আর কোনো বৈষম্য দেখতে চাই না।
তারা বলেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই—শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য নয়, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে।
শিক্ষক প্রতিনিধিরা আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর ৭-৮ বছরেও পেনশনের টাকা পান না। অথচ সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা এক মাসের মধ্যেই পেনশনের টাকা পেয়ে যান। এই বৈষম্য থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের পরিত্রাণ দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, পূর্বের মতো বর্তমানে মাদ্রাসাশিক্ষা ব্যবস্থায়ও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। উপজেলার অধিকাংশ মাদ্রাসায় ভবন নেই, যাতায়াতের জন্য পাকা সড়কও নেই। এ কারণে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে মাদ্রাসাশিক্ষা কার্যক্রম বিলীন হয়ে যাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। আমিও শিক্ষা পরিবারের একজন। বর্তমান সরকারের কার্যক্রম ৬-৭ মাস ধরে চলমান। সরকারপ্রধান শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। আপনাদের দাবিগুলো নোট করেছি। আপনাদের কথাগুলো আমি লিখিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করব।’









