পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৮৫ জন রোগী। ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালটিতে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে রোগীদের।
ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টানিয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে জায়গার সংকট থাকায় অনেকেই মশারি টানাতে পারছেন না। ফলে রাতে কয়েল জ্বালিয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। কোনো রকমে স্যালাইন ঝুলিয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। তবে অনেকে বাড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য গত রোববার ১০ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ইউনিটের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল, মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. উমর ফারুক জাবিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দিন দিন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগী জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো শয্যা পাননি। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁকে বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বারবার লোডশেডিং, তার ওপর মশা ও গরমে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মো. উমর ফারুক জাবির বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আমিসহ আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক রোগীদের দেখভাল করছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেলে অন্য রোগীদের ভর্তি রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা কোনো রোগীকে ফেরত দিচ্ছি না। তবে মেঝে ও সিঁড়ির পাশেও রোগীদের রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’








