পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তাঁর ৬৮ বছর বয়সী শাশুড়িকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বিলের মধ্যে ফেলে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আগুনে বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও তাঁর শাশুড়ি কহিনুর বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে শনিবার ভোররাত ও সন্ধ্যায় পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বেতকাটা গ্রামের আবদুল বারেকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের সাত একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমি বর্তমানে আবদুল বারেকের দখলে রয়েছে বলে দাবি তাঁর পরিবারের।
আবদুল বারেক, তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগম ও পুত্রবধূ শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের কাছে এক একর জমি ও সাত লাখ টাকা দাবি করে। ওই সময় তাঁদের ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তাঁরা। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে আবদুল বারেক অনেকটা বাড়িছাড়া ছিলেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী কহিনুর ও পুত্রবধূ শাহিনুর অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহিনুর বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার রাত আটটার দিকে ফের হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ সময় কহিনুর বেগমকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাড়ির পাশের বিলের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। পরে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
হাসপাতালের শয্যায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কহিনুর বেগম বলেন, “শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শহিদুলের নেতৃত্বে বেল্লাল, রাজিব, রহিম, সজিব, সোহাগ ও সোনাসহ কয়েকজন আমার ঘরে প্রবেশ করে। আমি দৌড়ে ঘরের ওপরের দিকে উঠলে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামায়। পরে আমার হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করে বিলে ফেলে রেখে যায়। আমার পুত্রবধূর ওপরও অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা আমার বসতঘরে আগুন দিয়ে চলে যায়।”
আবদুল বারেক অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রেখে বসতঘরে আগুন দিয়েছে। আমার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ঘরে থাকা টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে তারা।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন এর আগেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে মহিপুর থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পরে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংবাদ সম্মেলনও করেন। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বারেকের সঙ্গে বেতকাটা গ্রামের বেল্লালেরও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শনিবার বেল্লাল তাঁর বাড়ির পাশের খালে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরছিল। এ সময় বারেকের ছেলে বশির বেল্লালের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আর তাদের বসতঘরে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা আমি জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









