পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর বাজারের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খান মেডিকেলের সামনে থেকে উত্তর দিকে সড়কের একটি অংশ স্বাভাবিক সড়কের তুলনায় নিচু করে নির্মাণ করায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওই অংশটি (প্রায় ১০০ ফুট) আশপাশের সড়কের তুলনায় নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানি সহজে সরতে পারে না। ফলে দিনের পর দিন সড়কের ওপর পানি ও কাদা জমে থাকে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নুরাইনপুর বাজারের প্রধান সড়কের খান মেডিকেলের সামনে থেকে প্রায় ১০০ ফুট উত্তর দিকে যাওয়ার অংশটি আশপাশের সড়কের তুলনায় নিচু। সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত রয়েছে বা কোথায় রাস্তার অবস্থা খারাপ—তা অনেক সময় বোঝা যায় না। যানবাহন চলাচলের সময় পানির ছিটা পথচারীদের গায়ে গিয়ে পড়ছে। আবার পথচারীদেরও পানি ও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি কোনো সাধারণ বা আঞ্চলিক সড়ক নয়। উত্তর বাউফলসহ বাকেরগঞ্জ ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নুরাইনপুর বাজারের এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষ ছাড়াও পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে।
সড়কের এমন দুরবস্থার কারণে বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টির সময় ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পানি জমে থাকায় মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীদেরও বাধ্য হয়ে রাস্তার পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারের প্রধান সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। পথচারী ও ক্রেতারা দুর্ভোগের কারণে অনেক সময় বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সড়কের পানি ও কাদার কারণে দোকানের সামনের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় আশপাশের সড়কের উচ্চতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। স্বাভাবিক সড়কের তুলনায় নিচু করে নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের। নুরাইনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচলেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে সড়কের গর্তে মাটি বা ইট ফেলে সমস্যার সমাধান হবে না। খান মেডিকেলের সামনে থেকে উত্তর দিকে নিচু হয়ে যাওয়া অংশটি সঠিক উচ্চতায় পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। উত্তর বাউফল, বাকেরগঞ্জ ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।








