শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পরিবহন ব্যবস্থায় থাকা বাসগুলোর নিরাপত্তা ও চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি পৃথক দুটি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের ভোগান্তি ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অভিযোগ, দুটি বিআরটিসি বাসের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে তাঁরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে আরেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বাসে হঠাৎ ব্রেক করায় তিনি পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে তিনি সিএনজিতে করে যাচ্ছিলেন। একটি ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিআরটিসি বাস নিজেদের মধ্যে ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিটির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। সিএনজি চালকের দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা থেকে তাঁরা রক্ষা পান।
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, “আজ আমরা বেঁচে গেছি। কিন্তু আগামীকাল যেন কারও ভাগ্য এতটা ভালো না হয়।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু বাসচালকের, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাপনারও দায়িত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের জিন্নাত রেহানা পূর্ণিমা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াতের সময় হঠাৎ ব্রেক করার কারণে তিনি পড়ে গিয়ে আঘাত পান।
নিজের পাঠানো মেসেজে জিন্নাত রেহানা পূর্ণিমা জানান, বাসটি হঠাৎ ব্রেক করলে তিনি বাসের দরজার ওপর পড়ে যান। এ সময় তাঁর হাতের তালু/হাতে আঘাত লাগে এবং পরে বাসের সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান। তাঁর পাঠানো বার্তায় আঘাতের স্থান ও ঘটনার পরবর্তী অবস্থার কথাও উঠে এসেছে।
দুটি ঘটনা আলাদা হলেও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপদ বাস পরিচালনা, চালকদের সতর্কতা এবং নিয়মিত নজরদারি নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনপুলের ইনচার্জ এমডি উজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন পুলের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বাসচালকদের ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে বাস চলাচলের সময় চালকদের দায়িত্বশীলতা, অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে কি না, আকস্মিক ব্রেকিংয়ের মতো ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা এবং এসব বিষয়ে পরিবহন পুলের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো পৃথক ঘটনার হলেও, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা-নজরদারি ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।









