পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাঁশেরচর গ্রামটি। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নতুন করে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তার ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। যাদের সম্বল নেই, তারা বারবার নদীর পাশে ঘর বাঁধছেন। কোনো কোনো পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর বাঁধছেন। সব ভিটেমাটি শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত সরকারি রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।
ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, শিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই দুটি বাড়িসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বিলীন হয়ে যাবে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিটুলী রানী বলেন, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে চলে গেলে তিনি সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
হাসিবুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
রিপন মাল (৩৭) জানান, বাবা-দাদার আমল থেকে এ গ্রামটি ভাঙছে। এ বয়সে তিনি ৫-৬ বার বসতঘর পাল্টিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন।
আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন শিকদার বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়-সম্বল কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ৩ নম্বর ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তার ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাঁশেরচর গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হবে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









