পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ১৯২ নম্বর সাংবাদিক গনি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) স্মিথ জেরিন সাগরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর এক অভিযোগনামায় এ তথ্য জানানো হয়। অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণে অনিয়ম, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগনামা সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় সকাল ৯টায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের বাইরে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে স্মিথ জেরিন সাগরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করানো, রাস্তার মাটি কাটানো, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ডিম সিদ্ধ করানোর জন্য বাড়িতে পাঠানো, স্কুল ফিডিংয়ের বিস্কুট ও দুধ বিতরণে অনিয়ম এবং ডিমের হিসাবের অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত পাঠদান না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, ক্লাস রুটিন এবং খাদ্য বিতরণসংক্রান্ত রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ নতুন করে রুজু হওয়া বিভাগীয় মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, এসব অভিযোগ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযোগনামায় স্মিথ জেরিন সাগরের কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে একই বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) উপবিধি অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
তাকে অভিযোগনামা পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি না, তাও জবাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এর আগে স্মিথ জেরিন সাগর গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো এবং স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন।
এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পরবর্তী তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।









