পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজীরহাট ও ঢনঢনিয়া এলাকার বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত ৩৬ ঘণ্টায় সড়ক, বেড়িবাঁধ, বসতঘর ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হাজীরহাট লঞ্চঘাটসহ একটি জামে মসজিদও হুমকির মধ্যে রয়েছে।
হাজীরহাট-বাঁশবাড়িয়া সড়কের প্রধান বেড়িবাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার একাংশ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার বাসিন্দারা ভাঙনের আতঙ্কে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র ছুটছেন। গত ৫০ বছরের মধ্যে এ রকম ভয়াবহ নদীভাঙন কেউ দেখেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীতে প্রবল স্রোত ও পানির চাপে সড়ক ও বেড়িবাঁধ নদীতে ধসে পড়ছে। উপকূলীয় জনপদ হিসেবে পরিচিত দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা ও রণগোপালদী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের কবলে রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকায় নদীশাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কিছুই হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নদীর ভাঙনে ফসলি জমি, বসতঘর, পারিবারিক কবরস্থান, সড়ক ও বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর আগ্রাসী ভাঙনে হাজীরহাট এলাকার অসহায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যে কোনো মুহূর্তে শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সবার চোখে পানি, আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নদীর ভাঙনের কারণে কবরস্থান থেকে বাপ-দাদার মরদেহ পুনরায় দাফনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে অনেকের চোখেই পানি চলে এসেছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলেছেন। আবার কারও থাকার মতো এক টুকরো জমিও নেই। ফলে এলাকার বাসিন্দারা অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছেন।








