পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নতুন বাজার এলাকার হালকা পরিবহন স্ট্যান্ডটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। পর্যাপ্ত তদারকি ও সংস্কারের অভাবে লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই যাত্রীসেবা অবকাঠামোটি এখন পুরোপুরি স্থবির। চলতি বর্ষা মৌসুমে নির্দিষ্ট ছাউনি বা অপেক্ষাগার সচল না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা স্থানীয় দোকানপাটে আশ্রয় নিয়ে গাদাগাদি করে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দূর-দূরান্তের মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দুমকী উপজেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে স্ট্যান্ডটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। গণপরিবহন ও হালকা যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে নির্মাণকাজ শেষের এক দশক পার হলেও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিচর্যার অভাবে বর্তমানে পুরো অবকাঠামোটি জরাজীর্ণ রূপ নিয়েছে। যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে দখলদারিত্বের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, স্ট্যান্ডটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল এর একাংশ দখল করে অবৈধভাবে দোকান ঘর বানিয়ে সুবিধা ভোগ করছে। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোর সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত এটি সংস্কার ও সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে দুমকি নতুন বাজারের কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরদার বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্ট্যান্ডটির একটি অংশে দোকান তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কে বা কারা এটি দখলে রেখেছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে দুইবার এটি মেরামত করেছি।
স্ট্যান্ডটির বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে দ্রুতই খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের মতে, সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।









