পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পর্যটন পল্লী চর গঙ্গামতি সৈকতের বেলাভূমিতে ভেসে এসেছে প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি মৃত ডলফিন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পরিবেশকর্মী আব্দুল জলিল সৈকতে ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। পরে এটি বোতলনোজ প্রজাতির ডলফিন বলে নিশ্চিত করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু।
খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক, ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ ও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গেছে এবং শরীরজুড়ে রয়েছে ক্ষতচিহ্ন। এছাড়া লেজে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, খবর পাওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিবিসিএফের সহসাংগঠনিক সম্পাদক কেএম বাচ্চু জানান, উদ্ধার হওয়া ডলফিনটি পুরুষ বোতলনোজ ডলফিন। গত কয়েক বছরে এ উপকূলে শুশুক, ইরাবতী, বোতলনোজ ও স্পিনার ডলফিনসহ তিমি ও কচ্ছপের মরদেহ পাওয়া গেছে। জলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও মাছ ধরার জালে আটকা পড়াকে এসব প্রাণীর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, গত তিন বছরে তাঁরা অসুস্থ অবস্থায় প্রায় চার থেকে পাঁচটি ডলফিন জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাগরে অবমুক্ত করেছেন। একই সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে অসংখ্য মৃত কচ্ছপ ও রাজকাঁকড়া পাওয়া গেছে।
ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু বড় ধরনের সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে সামুদ্রিক খাদ্যচক্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। মৃত ডলফিন বা কচ্ছপের খবর পেলে বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।









