পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা দেয়াল ও বেড়িবাঁধের মাঝখানে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বটতলা, চরনিশানবাড়িয়া ও মধুপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার। গত প্রায় ১০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার এ দুর্ভোগ চললেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে বসতবাড়িতে পানি জমে থাকার পাশাপাশি অনাবাদি পড়ে আছে ৬০–৭০ একর কৃষিজমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত পানি নিষ্কাশনের খালটি ভরাট করে দেওয়া হয়। এরপর পানি বের হওয়ার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের পানি পাইপের মাধ্যমে স্থানীয়দের জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুপাড়া থেকে চরনিশানবাড়িয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার অধিকাংশ জমি পানির নিচে। অনেক বাড়ির সামনে-পেছনে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। কোথাও পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় পচন ধরেছে। চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব। স্থানীয়দের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গুসহ নানা রোগের প্রকোপও বেড়েছে। সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী মিলন তালুকদার বলেন, “অন্তত ২০০ পরিবার গত ১০ বছর ধরে এই দুর্ভোগে আছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের পানি পাইপ দিয়ে আমাদের জমিতে ফেলা হয়। পানি নিষ্কাশনের খালও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ৬০–৭০ একর জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।”
চরনিশানবাড়িয়ার বাসিন্দা অলিউর রহমান নিপু বলেন, “কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই পানি নিষ্কাশনের খালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে পানি আর বের হয় না। উল্টো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমে থাকা পানি আমাদের জমিতে ফেলা হচ্ছে। এখন এখানে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বয়োবৃদ্ধ আবুল কালাম মাস্টার বলেন, “পাওয়ার প্লান্টের কারণে জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারিয়েছি। যে জমিটুকু আছে, জলাবদ্ধতার কারণে সেটিও চাষ করতে পারছি না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের এমন দুর্ভোগ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে তাঁদের বসতভিটা ও কৃষিজমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
এ বিষয়ে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। মশক নিধনে স্প্রে করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাইরে যাওয়া পানিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য মূল ড্রেন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি, কৃষিজমি রক্ষা এবং বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।









