পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মো. আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ২ নম্বর আলীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নুর আলম মাতব্বরের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। প্রায়ই বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে গ্যাস ট্যাবলেট চাইতেন এবং গলায় দড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতেন। তাঁর চলাফেরা ও আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।
বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। রাতে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলে তাঁর স্ত্রী বাড়িতে চলে যান এবং শাশুড়িকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে রেখে যান। পরদিন সকালে ওই কবিরাজের বাড়ির পুকুরের পাড় থেকে আরিফুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদল খলিফা জানান, আরিফুর রহমান ঢাকা থেকে আসার পর তাঁকে স্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি কখনো গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করতেন, আবার মৃত্যুর জন্য দোকানে গ্যাস ট্যাবলেট খুঁজতেন। তাঁকে ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পারেন, বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে আরিফুর রহমানের মরদেহ পাওয়া গেছে।
নিহত আরিফুর রহমানের মা মোসা. ডালিম বেগম জানান, তাঁর ছেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাঁকে অনেক চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়েছে। বুধবার রাতে প্রতিবেশী নুরজাহান নামের এক কবিরাজের কাছে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের পর তিনি কিছুটা স্বাভাবিক ছিলেন। রাতে তিনি ছেলের পাশেই ছিলেন। সকালে পাশে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে ওই কবিরাজের বাড়ির পুকুরের পাড়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী রুবিনা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে অনেক চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়েছে। গতকাল রাতে প্রতিবেশী এক নারীর মাধ্যমে নুরজাহান নামের এক কবিরাজের কাছে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কবিরাজের পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের পর তিনি কিছুটা স্বাভাবিক ছিলেন। রাতে তাঁকে ওই বাড়িতে রেখে তিনি চলে আসেন। তাঁর শাশুড়িও সেখানে ছিলেন। পরে কীভাবে কী ঘটেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
এ বিষয়ে কবিরাজ নুরজাহান বেগম বলেন, “রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আমি আরিফুর রহমানকে চিকিৎসা দিই। পরে তিনি আবোল-তাবোল কথা বলতে বলতে দৌড়ে পুকুরের পানিতে পড়ে যান। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে নাশতা ও ভাত খাওয়াই। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে এসে দেখি, আরিফুর রহমান পুকুরপাড়ে পড়ে আছেন। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।








