দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে মোস্তাক বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় কমিটি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে পূর্বেই মোস্তাককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুরোধে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর মোস্তাক গত ৯ ও ১৫ আগস্ট তার নিজস্ব কার্যালয়ে বসে তার অনুসারী দলীয় নেতা-কর্মীদের সামনে একটি সভায় বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যাচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।
নোটিশে বিষয়টি উল্লেখ করে ওই ঘটনায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী সাত (৭) কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগের সুস্পষ্ট লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্যও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশের অনুলিপি বিএনপির মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।
জেলা বিএনপির একটি সূত্র জানায়, লিখিত জবাব পাওয়ার পরই মোস্তাকের বিষয়ে দলের পরবর্তী করণীয় জানা যাবে।





