বরগুনার তালতলীতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটকের পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাঁদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কয়েকজন যুবককে সন্দেহজনকভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় রাজু নামে এক যুবকের সন্দেহ হয়। পরে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাঁদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন। এ সময় আটক ব্যক্তিদের একজন রাজুকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাজু কৌশলে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পিস্তলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই পাঁচজনকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পাঁচজনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পরে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তালতলী থানায় নিয়ে যায়।
আটক পাঁচজনের পরিচয় হলো—নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের আলতু খানের ছেলে মো. জিহাদ খান (৩৫), বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াবুনিয়া গ্রামের মো. মোর্শেদের ছেলে মো. হৃদয় মোল্লা (২৫), একই এলাকার শাহ আলম মল্লিকের ছেলে জামাল মল্লিক (২৭), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫) এবং তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের লিটন শিকদারের ছেলে লিমন শিকদার (২৮)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা অস্ত্রসহ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অস্ত্র বহনের কারণ পুলিশ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে, তাঁরা কী উদ্দেশ্যে এলাকায় এসেছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।ওই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




