বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র ও প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আমতলী-তালতলী ভায়া ফকিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। বর্তমানে ওই সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এতে যান চলাচলও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ওই আঞ্চলিক সড়কটি ঢাকা-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের মানিকঝুড়ি বাজার থেকে কচুপাত্রা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ।
উপকূলীয় এলাকার মানুষের সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলেও সড়কটি নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী আমতলী ও তালতলী উপজেলার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিনে ওই সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, আমতলীর মানিকঝুড়ি বাজার থেকে তালতলীর কচুপাত্রা বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে আছে। এসব গর্তের কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ইজিবাইক, যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিনই ঘটছে একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আবার কোনো কোনো স্থানে সড়কে সৃষ্ট গর্তে যানবাহন আটকে গেলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পাথর-খোয়া ও সড়কের পিচ উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ওই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষকে।
সড়কটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে সড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদার মো. ছগির হোসেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছোট-বড় গর্ত ও অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেও সড়কটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের অক্টোবর মাসে বার্ষিক জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় আমতলীর মানিকঝুড়ি বাজার থেকে তালতলীর কচুপাত্রা বাজার সেতু পর্যন্ত ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরগুনার ঠিকাদার মো. ছগির হোসেন কাজটির কার্যাদেশ পান। তবে তিনি কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে ওই বছরের শেষের দিকে তা শেষ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওই সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে এবং ইট-পাথরের খোয়া বের হয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হতে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিটার পরপর কোথাও কোথাও আরও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাসখানেক আগে বাসমালিকেরা নিজ উদ্যোগে ওই সড়কে সৃষ্ট ছোট-বড় গর্তে ইটের সুরকি ফেলে যান চলাচল অব্যাহত রেখেছেন।
বাসচালক রুহুল আমিন বলেন, সড়ক নির্মাণের অল্পদিনের মধ্যেই তা ভাঙতে শুরু করেছে। গত এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে চলাচল করছি। এটি এখন আর সড়ক নেই। সড়কটিতে যেভাবে গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছোট ছোট পুকুর।
তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফসা, রিয়ামনি ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সড়কটি এতটাই গর্ত ও খানাখন্দে ভরে গেছে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি সড়ক নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ওই সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, এটি যেমন ঠিক; তেমনি বরাদ্দও পাওয়া গেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, আমার বরগুনা জেলায় যোগদানের পূর্বেই সড়কটির পুনর্নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমি এখানে যোগদানের পর কেবল ঠিকাদারকে জামানতের অর্থ ফেরত দিয়েছি। চলতি অর্থবছরের একটি প্রকল্পে সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আমি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি অর্থবছরেই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।






