বরগুনায় ধর্ষণ মামলায় মো. মাহবুব কারিকর নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি। রোববার (৪ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তিনি এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের আদেশে বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচকী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. মাহবুব কারিকরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ওই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানার ১০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী মোছা. রিনা পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৩ জুন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে মো. খবির গাজী বাদী হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, একই বছরের ৩ জুন তার মেয়েকে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. মাহবুব কারিকর জামাতাসহ চট্টগ্রামে নিয়ে যান। চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর আসামি বাদীর জামাতাকে একটি হোটেলে পানি পান করতে পাঠিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীকে নিয়ে পালিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে বাদীর জামাতা বাড়িতে ফিরে এসে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। এ ঘটনায় ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর পর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। মামলাটির রায় পাওয়ায় আমি বিজ্ঞ বিচারককে ধন্যবাদ জানাই। এতে ভবিষ্যতেও মানুষ ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও জানান, যুক্তিতর্ক শুনানির দিন আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠান। রোববার আসামির উপস্থিতিতে আদালত রায় পড়ে শোনান। বর্তমানে আসামি সাজামূলে জেলহাজতে রয়েছেন।






