পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC)-এর উদ্যোগে নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ ও ১৮ আগস্ট ‘Developing the Mindset for Successful Journey’ বা ‘একটি সফল জীবনের জন্য মানসিকতা তৈরি করা’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ তোমাদের জীবনের এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এবং ভবিষ্যৎ গড়ার শ্রেষ্ঠ সময়।
আমাদের জীবনে দু’ধরনের মাইন্ডসেট দেখা যায়—ফিক্সড মাইন্ডসেট (Fixed Mindset) এবং গ্রোথ মাইন্ডসেট (Growth Mindset)। ফিক্সড মাইন্ডসেট মানুষকে একটি গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে। আর গ্রোথ মাইন্ডসেট বা ইতিবাচক মানসিকতা বিশ্বাস করে যে কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও শেখার আগ্রহ দিয়ে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। আমি চাই, পবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থী এই গ্রোথ মাইন্ডসেট নিজের মধ্যে ধারণ করবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দিনকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শুধু ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে লাইব্রেরি ব্যবহার, গবেষণায় মনোযোগী হওয়া এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিজেকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম, যেমন—ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, যা ক্যারিয়ারে সফল হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
IQAC-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানী এবং অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. নেছারউদ্দিন আহমেদ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপদেশমূলক বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এগ্রিকালচার অনুষদের ডিন প্রফেসর এম. জহুরুল হক, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের প্রফেসর আবুল বাশার খান, সিএসই অনুষদের প্রফেসর ড. মো. আবদুল মাসুদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নুরুল আমিন এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের মো. আব্দুর রহিম।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









