পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে ট্রলি, জেনারেটর, ওয়েট মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল বোঝাই সাতটি ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে লালুয়া ইউনিয়নের হাসনাপাড়া এলাকার ওই প্রকল্প থেকে ট্রাকগুলো আটক করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালামাল পরিবহনের সময় ট্রাকচালকদের কাছে মালামাল সরানোর প্রয়োজনীয় চালান বা অনুমতিপত্রসহ কোনো কাগজপত্র ছিল না। এ কারণে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের উপস্থিতিতে ট্রাকগুলো আটক করেন। পরে ট্রাক ও মালামাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট থেকে আবাসন প্রকল্প এলাকায় গ্যাস কাটার মেশিন দিয়ে অন্তত ১২টি ট্রলি কেটে খণ্ড খণ্ড করা হচ্ছিল। পরে বৃহস্পতিবার থেকে এসব মালামাল ট্রাকে তোলা শুরু হয়। শুক্রবার রাতে মালামাল লোড শেষ করে ট্রাকগুলো এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতিকালে খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে সেগুলো আটক করেন।
আটক একটি ট্রাকের চালক জানান, স্থানীয় সাব্বির ও সুমন নামের দুই ব্যক্তি নাটোরে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের সেখানে যেতে বলেন। বৃহস্পতিবার তারা ট্রাক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় আসেন এবং এরপর থেকে মালামাল তোলার কাজ শুরু হয়। শুক্রবার রাতে লোডিং শেষ হলে তারা চলে যাওয়ার পথে পুলিশ ট্রাকগুলো আটক করে এবং কাগজপত্র দেখতে চায়।
পরে জানা যায়, আটক মালামাল ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির। কোম্পানিটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পায়রা বন্দরের ওই এলাকার কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
ই-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লজিস্টিক কর্মকর্তা মো. রুপম বলেন, “এগুলো আমাদের কোম্পানির মালামাল। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে মালামাল নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগে মালামাল নেওয়ার ঘটনায় একটু মিসটেক হয়েছে।”
কোম্পানির পায়রা বন্দর কো-অর্ডিনেটর মো. ঘাসিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রলিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কোম্পানি এগুলো বিক্রি করেছে। তবে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার মো. ইরফানুল আল রিফাত বলেন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালামাল বোঝাই সাতটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রাতের বেলা সাত ট্রাক মালামাল নেওয়া হচ্ছিল এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ট্রাকগুলো আটক করা হয়েছে। তারা যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে পারলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামালসহ ট্রাকগুলো জব্দ করে। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়েছে। কোম্পানির লোকজন যথাযথ কাগজপত্র দেখিয়ে পায়রা বন্দর থেকে মালামাল নেওয়ার অনুমতি পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, রাতের আঁধারে পায়রা বন্দরের আবাসন প্রকল্প থেকে অনুমতিপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও রাতের আঁধারে ওই প্রকল্প এলাকা থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।









