স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীর নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে কয়েকটি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গলাচিপার ফেরিঘাট ও হরিদেবপুর খেয়াঘাটের সংযোগ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন ও যাত্রী চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে ভাটা শুরু হওয়ায় প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
শনিবার দুপুরের জোয়ারে গলাচিপা ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কে পানি উঠে যায়। এতে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় সমস্যায় পড়েন চালকরা। ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই যানবাহন ফেরিতে তুলতে হচ্ছে। একইভাবে হরিদেবপুর খেয়াঘাটের সংযোগ সড়কেও পানি জমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘাটগুলোর সংযোগ সড়ক নিচু হওয়ায় জোয়ারের পানি সামান্য বাড়লেই সড়ক প্লাবিত হয়। প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত সংযোগ সড়ক উঁচু করে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, রাঙ্গাবালীর আগুনমুখা নদীতে শনিবার দুপুরের জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এতে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, পোলঘাটসহ কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। কোথাও কোথাও সড়ক উপচেও পানি ঢুকে পড়ে।
তবে ভাটা শুরু হওয়ায় বর্তমানে এসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। রাঙ্গাবালীতে নিম্নচাপের কারণে তেমন কোনো বৃষ্টিপাত বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়নি। সকাল থেকে ছিল রোদেলা আবহাওয়া। তবে গভীর সাগর উত্তাল থাকায় সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার না করা হলে জোয়ারের পানি বাড়লেই এসব এলাকা বারবার প্লাবিত হবে। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও ঘাটগুলোর স্থায়ী উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।








