পটুয়াখালীর মহিপুরে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের আনা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির ক্রয়সূত্রে মালিক দাবি করা মো. ইমরান। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টায় মহিপুরের বিরোধপূর্ণ জমি সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মো. ইমরান বলেন, মহিপুর থানার ইউসুফপুর মৌজার জে.এল. নং-৪০, বি.এস. দাগ নং-২৩০৩/২৩০৭, খতিয়ান নং-৮১৬-এর ১.১৮ একর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-২৫৩/২০২৬ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২২ জুলাই কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালত উভয় পক্ষকে জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ওই আদেশের পর প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান এর লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমিতে পূর্ব থেকে নির্মিত একটি স্থাপনা বেআইনিভাবে ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় তিনি আইনগত প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ২২ জুলাইয়ের আদেশের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তিনি পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে মিস আপিল নং-৪০/২০২৬ দায়ের করেন। গত ৪ আগস্ট জেলা জজ আদালত আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং কলাপাড়া আদালতের ২২ জুলাইয়ের স্থিতাবস্থার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। উচ্চতর আদালতের ওই স্থগিতাদেশ পাওয়ার পরই পূর্বে ভেঙে ফেলা স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইমরান আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য, গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সাধারণ দেওয়ানি জমি বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতার সহযোগিতায় তিনি জমি দখলের চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগও তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, পুলিশ কখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, কী পরিস্থিতিতে গিয়েছিল এবং কী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথিপত্র এবং সর্বশেষ আদেশ যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জমিটির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই তিনি মেনে নেবেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মজিবুর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ##









