পটুয়ালীর মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
রোববার রাতে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের স্লুইসগেট (জলকপাট) এলাকায় ওই আইনজীবীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আইনজীবী সামিউল আলীম (৪৪) আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং ছৈলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা পরোয়ার মল্লিকের ছেলে।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাকির ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। ওই মামলায় জাকির হোসেন ফরাজী একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। পরে মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর মামলা পরিচালনার জন্য মো. সামিউল আলীমকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি।
রোববার মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় আদালতের বিচারক মো. আল আমিন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবীর ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিউল আলীম বলেন, মামলার ধার্য তারিখ থাকায় তিনি জাকির ফরাজীকে মুঠোফোনে কল করে আদালতে হাজির হওয়ার অনুরোধ করেন। তবে জাকির ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত আবেদনটি খারিজ করে জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরে মুঠোফোনে জাকিরকে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান সামিউল। ওই দিন রাত আটটার দিকে তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। এ সময় জাকির মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন এবং হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন সামিউল। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয় কয়েকজন আহত অবস্থায় সামিউল আলীমকে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. জাকির ফরাজী বলেন, ‘পাইলসের অপারেশনের জন্য বরিশালে যাওয়ায় আদালতে হাজির হতে পারিনি। মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবর পেয়ে মাথা গরম হয়ে যায়। তাই গিয়ে উকিলের কাছে বিষয়টি জানতে চাই। একপর্যায়ে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে গিয়ে পা কেটে যায়। আর কিছুই হয়নি।’
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘সামিউল আলীম নামে একজন আইনজীবীর ওপর হামলার খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।’









