স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে বাঁধন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট দিনব্যাপী “সাংগঠনিক কর্মশালা-২০২৬” আয়োজন করেছে। গতকাল ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে এ মহতী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁধন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. শরীফ রায়হান বলেন, “এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।” তিনি বলেন, মানবসেবার মতো মহৎ কাজে তরুণদের সম্পৃক্ততা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। বাঁধন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও সংগঠনটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ পর্যায়ে প্রফেসর ড. সাইফুল আলম বলেন, “বাঁধনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে। সংগঠনটির কর্মীরা মানবিক মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছাসেবার চেতনায় অন্যদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।”
অন্যদিকে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ বলেন, “বাঁধনের মতো মানবিক সংগঠনের কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও সবসময় সংগঠনটির পাশে থাকব।”
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাঁধন একটি সফল ও আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই অর্জন ধরে রেখে মানবসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।” তিনি নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালার প্রথম পর্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহেদী। তিনি নিরাপদ রক্তদান, রক্তদাতার দায়িত্ব, জরুরি রক্ত ব্যবস্থাপনা, সংগঠনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছাসেবার আদর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর উপস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী বাঁধনকর্মী, রক্তদাতা ও কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজন করা হয় “ব্লাড অলিম্পিয়াড”। রক্তদান ও মানবিক সেবাবিষয়ক জ্ঞানভিত্তিক এ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের সম্মানিত অতিথিরা ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করেন।
পরে বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা মেহেদী হাসান, বিভাগীয় জোন-১-এর উপদেষ্টা অনিক সরকার এবং আয়শা আক্তার সূচী সাংগঠনিক দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করেন। তাঁরা সংগঠনের আদর্শ, নেতৃত্ব বিকাশ, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আয়োজকরা জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে সদস্যদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা আরও সুদৃঢ় করা এবং নিরাপদ রক্তদান আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মানবসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতেও নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে বাঁধন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।









