মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা: পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় মধ্যযুগীয় কায়দায় এক গ্রহবধুকে নির্যাতনের ঘটনায় স্বামীক ও শ্বশুরকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় মোসাঃ লিপি বেগমকে একটি টমটমে হাত-পা বেঁধে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে বাঁধাদেয়। তখোন লিপি বেগমের স্বামী মোঃ শাহজামাল ও শশুর মোঃ মোসলেম মৃধার সাথে স্খানীয়দের কথা কাঁটাকাঁটি একপর্যায় হাতাহাতি হয়।
লিপি বেগম বাঁচার আকোতি করলে স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি আরো আবেগপূর্ণ হয়। তখোন তারা দশমিনা থানায় খবর দিলে ঘটনা স্থল থেকে লিপি বেগমের স্বামী শাহজামাল ও শশুর মোসলেম মৃধাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। লিপি বেগম দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনায় হেলাল মৃধা নামের একজন আহত হন।
ভুক্তভোগী লিপি বেগম জানান, আমার বিবাহের পর থেকে পরিবার ঠিকঠাক মতোই চলছিলো। আমার দুটি ছেলে ও তিনটি কন্যা আছে। আমার স্বামী কয়েক বছর আগে একটি দ্ধিতীয় বিয়ে করেন। ঐ বিবাহের পর থেকে আমার উপর স্বামী ও শশুর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে।
এ ঘটনায় কয়েকবার স্থানীয় ভাবে শালিসি হয়। আজ বুধবার সকালে আমার স্বামী ও শশুর আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। তাদের শারীরিক নির্যাতনে অজ্ঞান হয়ে পরি। আমার স্বামী ও শশুর আমাকে একটি টমটমে হাত-পা বেঁধে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে পথি মধ্যে চরহোসনাবাদ আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত-পা বাঁধা তখোন বাঁচার জন্য ডাকচিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। সেখানে স্থানীয়দের সাথে আমার স্বামী ও শশুরের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে থানা পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমার স্বামী ও শশুরকে থানায় নিয়ে যায়। আমি সুস্থ হয়ে আইনের আশ্রয় নিবো।
প্রতক্ষদর্শী হেলাল মৃধা জানান, সকাল ৯টা হবে দেখি একজন মহিলাকে হাত-পা বেঁধে শাহ জামাল ও তার বাববা মোসলেম মৃধা টমটমে নিয়ে যাচ্ছে। মহিলা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিকাৎকার করছে। আমাদের সন্দেহ হলে আমি সহ ৭-৮ জন টমটম থামিয়ে শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে জানতে চাই কি হয়েছে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। এই কথা বলায় শাহজামাল আমাকে মারতে আসে। সেখানে তাদের সাথে কথা কাঁটাকাটিঁ এাক পর্যায় হাতাহাতি হয়। শাহজামাল আমার মাথায় একটি চলা দিয়ে বারি দেয়। আমরা থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা থেকে পুলিশ এসে শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে থানায় নিয়ে যায় আর ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি ও চিকিৎসাধীন আছি।
দশমিনা থানার উপপুলিশ পদির্শক (এনআই) নাজমুল ও মাহবুব জানান, ঘটনার বিষয় শুনে ঘটনা স্থল থেকে লিপি বেগম নামের এক গৃহবধুকে একটি টমটম থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক ভাবে লিপি বেগমের স্বামী মোঃ শাহজালাল ও শ^শুর মোঃ মাসলেম মৃধাকে ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।








