পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ২নং লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা বুদ্ধিজীবি মার্কেটের মসজিদ সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধটি সংরক্ষণের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে বেড়িবাঁধের ওপর কার্তিকপাশা গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ২নং লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর জব্বার শিকদার, ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান বাবুল, স্কুল শিক্ষক মো: সোহরাব হোসেন, মো: রফিকুল ইসলাম, পল্লী চিকিৎসক হারুন অর রশীদ, সাংবাদিক পারভেজ মাহমুদ, ফয়সাল আজাদ, মাসুদ প্যাদা, জাকির হোসেন, রিপন হাওলাদার, তসলিম মাহমুদ তুষার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কার্তিকপাশা মসজিদের সংলগ্ন এই বাঁধটি কোনো সাধারণ মাটির বাঁধ নয়, এটি এই এলাকার মানুষকে বাঁচানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ।
২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে বক্তারা বলেন, ‘‘সিডরের পর আমাদের লেবুখালী ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, স্কুল ও মসজিদ পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি গ্রামের মানুষের ঘরে চুলা জ্বালানোর মতো অবস্থা ছিল না, সবখানে পানি উঠে গিয়েছিল। এরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ড এই রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করে।’’
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে কিছু স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি কেটে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাঁধটি কাটা হলে পুরো এলাকা আবারও চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
বক্তারা আরও জানান, ‘‘বাঁধ কাটার কোনো প্রয়োজন নেই। বাঁধের ভেতরে কিছু অভ্যন্তরীণ অন্তরায় বা পকেট বাঁধ রয়েছে এবং বিকল্প খাল ও স্লুইসগেট রয়েছে। এই বিকল্প খাল ও স্লুইস গেটগুলো সঠিকভাবে সংস্কার ও পুনর্খনন করলেই পানি নিষ্কাশনের সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই কোনো অবস্থাতেই মূল বেড়িবাঁধটি না কেটে বিকল্প পথগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।’’









