জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণ কাজে অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্তকরণ প্রকল্প-২০২৬’-এর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার হাজীখালী ডিজিটাল স্মার্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘হাশেম-রোকেয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ এই চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করেন হাশেম-রোকেয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এজিএম ও হাজীখালীর কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মো. আবুল হাশেম। তিনি হাজীখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমড়া, লেবু ও জামসহ চার শতাধিক ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।
হাজীখালী ডিজিটাল স্মার্ট স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বোতলবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিস্ট সমাজসেবক শ.ম. দেলোয়ার হোসেন দিলিপ, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.ফখরুল ইসলাম তালুকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভলেন্টিয়ার প্রধান মো. রাশিদুল ইসলামসহ শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল হাশেম বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ থেকে আমরা বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন পাই। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বায়ুদূষণ কমায়, পরিবেশ এবং মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করে। এছাড়া মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গাছ বড় ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের ফলমূল ও ঘরবাড়ি তৈরির উপকরণ সরবরাহ করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে বেশি বেশি করে গাছের চারা রোপণ করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চারা রোপণে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও উদ্যোগী করার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সংস্থা থেকে জানানো হয়।









