বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির কাছে কালাইয়া হাটের ইজারাদারের ব্যক্তিগত গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় ওই গাড়ির চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির সভাপতির নাম মো. আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। তাঁর বাবা উপজেলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার।
কালাইয়া হাটের ইজারাদার হলেন মো. রাজিব হোসেন। পেশায় তিনি একজন উচ্চতর ডিগ্রীধারী হিসাববিদ (এফসিএ)।
রাজিব হোসেন বলেন, সাপ্তাহিক সোমবারের গরুর হাটের খাজনা আদায়ের টাকা নিয়ে আজ মঙ্গলবার তিনি তাঁর বাউফল পৌরসভার গোলাবাড়ি বাসা থেকে তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কালাইয়া পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। গাড়িটি তাঁর চালক মো. শাহিন মিয়া (৫৩) চালাচ্ছিলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তাঁর মোটরসাইকেল দিয়ে কয়েক দফায় ধাক্কা দেন। দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে পলি ডায়াগনষ্টিকের সামনে পৌছালে তাঁর গাড়ির চালক শাহিন মিয়া গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এতে ফাহাদ ক্ষুব্ধ হয়ে মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে শাহিন মিয়াকে মারধর শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন,স্থানীয় লোকজন হস্তক্ষেপে রাজিব হোসেনের গাড়িটিকে জাবির ডায়াগনষ্টিকের সামনে নিয়ে রাখা হয়। গাড়ির মালিক রাজিব হোসেন পাশের একটি ডায়াগনষ্টিকের মধ্যে গিয়ে বসেন ও চালক শাহিন মিয়াকে নিয়ে পাশের একটি দোকানে বসিয়ে রাখা হয়। ততক্ষণে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সেখানে খবর দিয়ে আনা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় চালক শাহিন মিয়াকে প্রকাশ্যে মারধর করেন ফাহাদ ও তাঁর লোকজন। পরে তৃতীয় দফায় পাবলিক মাঠে শাহিন মিয়াকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির চালক শাহিন মিয়ার কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য এক চালক দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যান।
রাজিব হোসেন বলেন,প্রকাশ্যে টাকাসহ তাঁর গাড়িটি ছাত্রদল নেতা ফাহাদ ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন।
টাকাসহ গাড়ি ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে কালাইয়া যাওয়ার পথে সৌদিয়া বিপণিবিতানের সামনে পৌঁছালে যানজটে পড়েন। সামনে কালো রঙের একটি গাড়ি ছিল। এ কারণে তিনি যেতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গাড়িটির পাশ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন,তখন কালোগাড়িটির চালক তাঁর (ফাহাদ) হাত ধরে টান দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তবে তিনি (ফাহাদ) কারো গাড়িতে ধাক্কা দেননি। টাকাসহ গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে
ফাহাদ আরও বলেন,তাঁকে (ফাহাদ) ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাঁর হাত ধরে টান দেওয়া হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









