পটুয়াখালী নদী বন্দরে দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট দূর করতে সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে বিশেষ ড্রেজিং (পলি অপসারণ) কার্যক্রম। এই ড্রেজিংয়ের ফলে পটুয়াখালী-ঢাকা রুটের বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল আগের চেয়ে অনেক সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী নদী বন্দরের প্রবেশমুখ এবং পল্টুন সংলগ্ন এলাকায় পলি জমে চর জেগে উঠেছিল। ফলে ভাটার সময় লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে না পেরে মাঝনদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হতো। সাম্প্রতিক এই ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো যাত্রী।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ২৩ মার্চ পটুয়াখালী লঞ্চঘাট আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ঢাকাগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তা ও সার্বিক সেবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পটুয়াখালী-১ আসনের সাংসদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী নদী বন্দর পরিদর্শন শেষে লঞ্চ চলাচলের সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দেন। এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরুরি ভিত্তিতে পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট ও এর আশেপাশের চ্যানেলে ড্রেজিং শুরু করে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক মোঃ জাকী শাহরিয়ার গণদাবী’কে জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে নদীতে পলি জমে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হতো। গত ঈদের মাস কয়েক আগে ড্রেজিং শুরু হয় যা কোরবানি ঈদের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্লাটুনে যথেষ্ট পানি রয়েছে। এক সাথে ৮-৯ টি লঞ্চ ঘাটে অবস্থান করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে নদী বন্দরে ২৩শে মে থেকে ২রা জুন পর্যন্ত বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরে সুপেয় পানি, ব্রেস্ট ফিডিং, চার্জিং পয়েন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ছাড়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।বিভিন্ন সচেতনতা মূলক লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালে নিয়মিত এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের পর পলি এসে আবার নদী ভরাট হয়ে যায়। তাই নদী বন্দরটিকে স্থায়ীভাবে সচল রাখতে নিয়মিত ও পরিকল্পিত মেইনটেইন্যান্স ড্রেজিং প্রয়োজন।
যাত্রী সাধারণের মতে, পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাটে সাম্প্রতিক ড্রেজিং নিঃসন্দেহে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগে একটি বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে এই সুফল ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের মাটি যত্রতত্র নদীতে না ফেলে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা এবং নিয়মিত খনন কাজ অব্যাহত রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।









