পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে একটি বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কাটা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই মামলায় তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মো. মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।
রোববার কলাপাড়া পৌর শহরের খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে (মামলা নং-৭৩৯) কলাপাড়া থানার ওসিকে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাই মাটি কাটার যন্ত্রপাতি নিয়ে বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমিতে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নেন এবং সেখানে ইট-পাথর ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদী আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখলে রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে থানায় গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, “বিরোধীয় জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালত প্রকৃত মালিকদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। জমি বুঝে পাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা বা ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে।”
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









