এক মাস না পেরোতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে জেলেদের মাছ ধরার ট্রলারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ট্রলারে থাকা মাছ, জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা। লুটপাটে বাধা দেওয়ায় দুই জেলেকে মারধর করা হয়েছে। এতে তাঁরা আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৫টার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার দেলোয়ারের মালিকানাধীন এফবি শাহআমানত ট্রলারে এ হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।
ট্রলারে থাকা জেলেদের অভিযোগ, ভোররাতে ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। পরে হামলাকারীরা ট্রলারে থাকা প্রায় ১০০ ট্রে মাছ, মাছ ধরার জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হোসেন ও সেলিম নামে দুই জেলেকে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, তাঁদের ট্রলারের চুকান ভেঙে যাওয়ায় সেটি সমুদ্রে ভাসছিল। এ সময় হঠাৎ ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের ঘিরে ফেলে। তাঁরা ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ট্রলারের কাগজপত্র দেখালেও হামলাকারীরা তা বিশ্বাস করেনি। উল্টো জেলেদের মারধর করা হয়। একই সঙ্গে নিজেদের ট্রলার দিয়ে এফবি শাহআমানতের চুকান ও বোটের তক্তা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইলে হামলাকারীরা চলে যায়। এরপর কোনোভাবে তাঁরা তীরে ফিরে আসেন।
ট্রলারটির মালিক দেলোয়ার বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর বাজার-সদাই করে ট্রলারটি মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে পাঠানো হয়। তাঁর অভিযোগ, এফবি নুসরাত, এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আল্লাহর দানসহ ৪-৫টি ট্রলার তাঁদের ট্রলারে হামলা করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ, ৫ লাখ টাকার জাল ও তেল নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এটি ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা তেমন ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে এ ধরনের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে। এতে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সমুদ্রে নৌ-টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ বলেন, তাঁরা নিয়মিত সমুদ্রে টহল দিচ্ছেন। জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঘটনা জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জড়িতদের আটক








