আগাম তরমুজ চাষের আশায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে। আমন ধান কাটার পর তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময় পাওয়া যাবে না এমন আশঙ্কায় অনেক কৃষক ইচ্ছাকৃতভাবে আমন আবাদ থেকে বিরত রয়েছেন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে তরমুজ চাষ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো চাষাবাদ ছাড়াই পড়ে আছে। বিশেষ করে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের পরিবর্তে আগাম তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধান চাষ করলে ধান কাটতে দেরি হবে। এরপর জমি প্রস্তুত করে তরমুজ বপন করতে গেলে আগাম তরমুজের মৌসুম পেরিয়ে যাবে। এতে আগাম তরমুজ বাজারজাত করে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। এ কারণে তারা ঝুঁকি নিয়ে জমি অনাবাদী রেখেছেন।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. লিটন সিকদার ও রিসাদ হাওলাদার বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এ বছর জমি চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। আমন চাষ করলে ধান কাটতে দেরি হবে। ফলে তরমুজ চাষের সময় পাওয়া যাবে না। তরমুজ দেরিতে চাষ করলে বিভিন্ন রোগ ও ভাইরাসের আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই আগাম তরমুজ চাষের আশায় তারা জমি অনাবাদী রেখেছেন।
কৃষকেরা জানান, আগাম তরমুজ চাষের জন্য কার্তিক মাসের মধ্যেই জমি প্রস্তুত করতে হয়। আমন ধান থাকলে ধান কাটা ও জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে তরমুজ চাষ পিছিয়ে যায়। ফলে আগাম তরমুজের পরিবর্তে মৌসুমি তরমুজ চাষ করতে হয়। এতে বাজারে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগাম তরমুজ চাষের আশায় এ বছর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়নি। তবে যেসব জমিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো অন্তত এক মাস আগে আমন চাষের উপযোগী করে প্রস্তুত করলে আমন আবাদ করা সম্ভব ছিল।
তিনি বলেন, আগামীতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হবে, তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করা জমিতে আমন চাষের সময় থেকেই পরবর্তী ফসলের জন্য পরিকল্পনা করে জমি প্রস্তুত করতে। সঠিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা করতে পারলে একই জমিতে আমন ও পরবর্তী সময়ে আগাম তরমুজ দুই ফসলই আবাদ করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে একই জমিতে দুই ফসল আবাদ করা গেলে জমি অনাবাদী পড়ে থাকবে না। এতে কৃষকের উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়বে।








