জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুবিষয়ক তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে পটুয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালী কোডেক ট্রেনিং সেন্টারে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পরিচালনায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালা চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ মহবুবা ফারজানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মহবুবা ফারজানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দৃশ্যমান। প্রকৃতির ওপর মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপ ও অত্যাচারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য ও উপাত্তের যুগ। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন জরুরি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তুলতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি বা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ কমাতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের ঝুঁকি ও সমস্যা গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সাংবাদিকদের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল লেখনীর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্প পরিচালক ড. মারুফা নওয়াজ বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। জলবায়ুবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি, নিউজ রিপোর্টিং এবং স্টোরি ডেভেলপমেন্টে সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, পটুয়াখালী একটি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকা। এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদ, নারী ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ চেনা বিষয়গুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে জানার সুযোগ করে দেয়।
তিনি বলেন, “সমাজের প্রতিটি মানুষেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব রয়েছে।” জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সাংবাদিকদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলবায়ু ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সঠিক ও সময়োপযোগীভাবে তা সংবাদে উপস্থাপনের বিভিন্ন কৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করা এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।









