পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হারিছ আহমেদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি কাদাপানিতে চুবিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ২০-২২ জনের একটি দল হারিছ আহমেদের ওপর হামলা চালায়। তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে কাদাপানিতে ফেলে চুবিয়ে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে সাইফুল্লাহ বাবুল অভিযোগ করেন, হামলার পর তার বাবাকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং কিছু সময় বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয় চৌকিদার ও ইউপি সদস্যের সহায়তায় কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, একই গ্রামের খলিল গংয়ের নেতৃত্বে ২০-২২ জন এ হামলায় অংশ নেয়।
এ ঘটনায় আমতলী থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াকাটা গ্রামজুড়ে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।









