মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: প্রতিবন্ধী কিশোর বয়সী রাজু তার বিধবা মা ফাতেমা বেগম ও হাফেজি পড়ুয়া ছোট্ট বোনের জীবিকার যোগান দেওয়ার অবলম্বন নতুন দোলনায় আবার দুলছে পর্যটক। মঙ্গলবার সকালে রাজুর দোলনা সাতটি নতুন করে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঝোলানো হয়েছে গঙ্গামতি সৈকতের ঝাউ গাছের সঙ্গে। ফলে ছোট্ট রাজুসহ তার বিধবা মায়ের সংসারের জীবিকার যোগান সচল হলো। রাজু’র সংসারের জীবিকার যোগান দোলনা পুড়িয়ে দেওয়ার সচিত্র খবর প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দৈনিক গণদাবীর অনলাইন ভার্সনে ও প্রিন্টে (পর্যটক বিনোদনের দোলনা পুড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে প্রতিবন্ধী রাজু’র পরিবার) শিরোনামে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনও ওই পরিবারকে সহায়তা করেন। এগিয়ে আসেন কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা হাওলাদার।
তিনি জানান, অসহায় ওই পরিবারের জীবিকার জন্য সাতটি দোলনা নতুন করে বানিয়ে সেট করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রশ্ন করেছেন অনেকে, ছাত্রদলের যে স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন অমানবিক নিষ্ঠুরতার অভিযোগ উঠেছে, তার কী হবে?
উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। রাজুর দোলনা গুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মায়ের হাতের তৈরি এই দোলনায় গঙ্গামতি সৈকতে আসা পর্যটককে বিনোদন দিত রাজু। যে যা দিতেন তাই দিয়ে তাঁদের সংসারের ভরণ-পোষণ চলছিল। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি সৈকতের এই খবরটি সর্বত্র আলোচনা চলছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার কারণে মানুষ প্রশংসাও করছেন।
সৈকতের বেলাভূমে ঝাউ গাছের সঙ্গে ঝোলানো দোলনায় পর্যটকরা দুললে জীবিকার যোগান জুটতো প্রতিবন্ধী রাজুর পরিবারের। কোনদিন এক টাকাও জুটত না। আবার কোনদিন পাঁচ শ’ টাকাও পেত। ওখানকার টুরিস্টদের ব্যবহৃত একটি ওয়াশরুমও পরিষ্কার করে আসছে রাজু। এই আয় দিয়ে প্রায় তিনটি বছর রাজুর সংসারের যোগান চলে আসছে । চলে ছোট্ট বোনের লেখাপড়া। পর্যটক আসলে কমবেশি আয় হয় রাজুর। প্রকৃতির দেওয়া নৈসর্গিক দৃশ্য পর্যটককে দেখার সুযোগের মধ্য দিয়ে জীবিকার উপায় খুঁজে নেয় প্রতিবন্ধী কিশোর, রাজু। কারো কাছে হাত পাতেনি। কিন্তু ওই দোলনাগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অতি সম্প্রতি ছাত্রদলের ওই নেতা গঙ্গামতি সৈকতে ছাতাবেঞ্চি বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু পর্যটকের কাছে রাজু’র দোলনার কদর বেশি। যার জের ধরে পোড়ানো হয় দোলনা।
ধুলাসার ইউনিয়ন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম যদিও জানিয়েছেন, তিনি এর জন্য দায়ী নন। বিষয়টির জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তাঁর ছাতাবেঞ্চি দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত আলিফ নামের সমবয়সী একটি ছেলে রাজুর দোলনা পুড়েছে বলে তার দাবি। তিনি এজন্য আলিফকে কাজ থেকে বাদ দিয়েছেন। গালমন্দ করেছেন। রাজুর ক্ষতিপুরণসহ দোলনা বানানোর ব্যবস্থা নিজ থেকে ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।









