“জীবিত অবস্থায়ই যদি টাকা না পেলাম, তবে মৃত্যুর পর সেই টাকা আমার কী কাজে লাগবে?”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উলানিয়া হাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শাহজাহান মিয়া (ইনডেক্স নং: ৭৫৯৫৩৬)।
দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অবসরে গেলেও আজও তিনি পাননি সরকারি পাওনা কল্যাণ ভাতা ও অবসর ভাতার একটি টাকাও। প্রায় দুই বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে এখন চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই প্রবীণ কর্মচারীর।
জানা গেছে, অবসরের পর প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অনলাইনে কল্যাণ ভাতা ও অবসর ভাতার জন্য আবেদন করেন শাহজাহান মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।
সরেজমিনে কথা বলতে গেলে আবেগাপ্লুত হয়ে শাহজাহান মিয়া বলেন,
“সারা জীবন সততার সঙ্গে চাকরি করেছি। প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে ১০ শতাংশ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এখন সেই টাকাটাই ফেরত চাইছি। কিন্তু কেন আমার ন্যায্য পাওনা পেতে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে?”
তিনি আরও বলেন, “বেঁচে থাকতেই যদি এই টাকা না পাই, তাহলে মৃত্যুর পর এই টাকা আমার কী কাজে লাগবে?”
ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী এবং একই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মজিবর রহমান জানান, শাহজাহান মিয়া বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংসারের অভাব এতটাই প্রকট যে দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বয়সজনিত নানা রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না। অসুস্থতা ও দারিদ্র্য তাকে একপ্রকার অসহায় করে তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে শাহজাহান মিয়ার মতো অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে জীবনের শেষ সময়ে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তারা অবিলম্বে মানবিক বিবেচনায় শাহজাহান মিয়ার অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতাসহ সব বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেন একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে তার ন্যায্য পাওনার জন্য আর অপেক্ষা করতে না হয়।









