গলাচিপা প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,‘মব সৃষ্টি করে নিরপরাধ নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের গ্রেপ্তার করা হলে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে হাসান মামুন এসব কথা উল্লেখ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে নুরকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও উল্লেখ করেন,‘নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে রাজনৈতিক প্রতি পক্ষকে ফাঁসিয়ে নির্বাচনের মাঠ ছাড়া করার এটি অনেক পুরোনো ও অকেজো কৌশল।’
একই রাতে দশমিনা উপজেলায় ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন।
হাসান মামুন বলেন,‘মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে একজন সাধারণ মানুষের মত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এতে দুই উপজেলার নেতা-কর্মীরা তাকে সমর্থন দিয়ে পাশে থেকেছেন।
তার কথ্যমতে, গত ৩০ বছরে এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য হতে পারেননি; তাই দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন,‘এর পর নুরুল হক নুর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিকে প্রভাবিত করে তাকে ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঢালাও ভাবে বহিষ্কার করান। পরে সবগুলো কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠন করান।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় ছিলেন। অথচ নুর আচরণবিধি অমান্য করে প্রচারনা চালাচ্ছেন, তাকে জড়িয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করাচ্ছেন। পরবর্তীতে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন।
হাসান মামুন বলেন,‘এসব ঘটনায় তিনি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করলে বিচারিক কমিটি নূরকে শোকজ করেন। এরপর বিচারিক কমিটি তাকেও শোকজ করেন। কিন্তু সেটি ছিল প্রতিপক্ষকে (নুর) খুশি করার জন্য।
এসময় তিনি নুরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে প্রশাসনের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নেয়া ভিন্ন রাজনীতি,সেটি হয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের কারণে।’
এ বিষয়ে হাসান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নূর নিজের অফিসে আগুন দিয়ে উদ্বেগজনক পরিবেশ তৈরি করছেন। গতকাল মঙ্গলবার আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য আমরা যেন মাঠে দঁাড়াতে না পারি।’
ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তিনি বলেন,‘কারও মবের ভয়ে প্রশাসন যদি অন্যায় ভাবে আমার নেতা-কর্মী বা সাধারণ ভোটারদের গ্রেপ্তার করে,তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা সংস্থা, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে-ফেসবুক স্টাটাকে এটা বোঝানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী সমন্বয়ক আবু নাঈম জানান,‘আমাদের প্রার্থী উদ্বেগের জায়গা থেকে সংবাদ সম্মেলন করে যৌক্তিক দাবি তুলেছেন। কিন্তু হাসান মামুন সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা তার ব্যক্তিগত ও মনগড়া বক্তব্য; বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী-৩ আসনে (গলাচিপা-দশমিনা) বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন ও তঁার সমর্থকেরা ধারাবাহিক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতির দেয়ার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় নির্বাচনী এলাকায় সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন। এর আগে তিনি জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।









