পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়ালীর দুমকিতে পায়রা সেতুর লেবুখালী টোলপ্লাজায় তল্লাশি চালিয়ে একটি স্কুলব্যাগের ভেতর থেকে ১ হাজার ৬১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকরা হলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মো. আসাদুজ্জামান হাং ওরফে ভুলু আরিফ (৪৩)।
পুলিশ জানায়, রোববার (৯ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুমকি থানা পুলিশ জানতে পারে, বরিশালের দিক থেকে একটি মাইক্রোবাসে যাত্রীবেশে এক ব্যক্তি স্কুলব্যাগে করে ইয়াবার চালান নিয়ে পটুয়াখালীর দিকে আসছেন। পরে দুমকি থানা পুলিশের একটি দল লেবুখালী টোলপ্লাজায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে।
রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামায়। এ সময় চালকের পাশের আসনে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তাঁর সঙ্গে থাকা জলপাই রঙের স্কুলব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাগের ভেতর থেকে ১ হাজার ৬১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আসাদুজ্জামান হাং ওরফে ভুলু আরিফের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান হাংকে আটক করা হয়।
অভিযানে ইয়াবার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জলপাই রঙের স্কুলব্যাগ, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দুমকি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মাদক কারবারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাদকবিরোধী অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় লেবুখালী টোলপ্লাজায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার এই চালানটি আটক করা হয়।









