পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিজের ছেলেসহ অন্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়ম করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা পদের অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করেন অভিযুক্তরা। পরবর্তী সময়ে সাবেক উপাচার্যের ছেলেসহ অন্যদের নিয়োগের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি ও অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁদের চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব নিয়োগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে নিজেদের এবং অন্যদের লাভবান করার উদ্দেশ্যে এসব অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছে দুদক।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।








