বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় নিম্নমানের ধান বীজ বিক্রি করেছে ডিলার,এতে শীষ ধরলেও ধানের ফলন এসেছে কম,ফলে এলাকার শতাধিক কৃষক দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এ বীজ রোপণের পরই চারা গাছে ধরেছে শীষ। স্বল্প সময়ে ধানের ফলনে কৃষিতে বিপ্লব হওয়ার কথা থাকলেও, সেটাই কাল হয়েছে কৃষকদের কপালে। নিম্নমানের ধানের বীজে আগেই চারা গাছে শীষ ধরায় এ বছর ধানের ফলন কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এতে ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর সাউথ এশিয়ান সিডস কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল বি.আর-২২ জাতের ধানের বীজ রোপণ করে ভালো ফলন পান পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের কৃষকরা। তাই চলতি বছরও পাথরঘাটার বীজ ডিলার নাসির উদ্দিন সরদারের কাছ থেকে একই জাতের বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন তারা। বীজ রোপণের ১৫-২০ দিন পর বীজতলা থেকে চারা তুলতে গিয়ে দেখা যায় সব চারায় শীষ এসে গেছে। তিন মাস আগেই শীষ ধরলেও সেসব অপরিপক্ব ধানে ফলন এসেছে কম, অধিকাংশ শীষেই ধরেছে চিটা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নমানের বীজের কারণে প্রায় ৯০ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
কৃষকদের অভিযোগ, কুরা প্রতি অন্তত ৪০ হাজার টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হলেও তাদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা করে। তাই যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি তাদের।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে দোল খাচ্ছে সবুজ ফসল। স্বল্প সময়ে বীজে ধান আশায় খুশি হওয়ার কথা থাকলেও মলিন মুখ আর হতাশা নিয়ে বসে আছেন কৃষকরা। আশপাশের সব জমির ধানে ফসল এলেও বিবর্ণ শুধু সাউথ এশিয়ান সিডস কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল বি.আর-২২ জাতের ধানের ফসল।
উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বলে প্রতারণার অভিযোগ তুলে সাকিব নামের এক কৃষক জানান, পাথরঘাটা এলাকার ডিলার নাসির সরদার আমাদেরকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের কথা বলে ‘সাউথ এশিয়ান সিডস’ কোম্পানির বি.আর-২২ জাতের ধানের বীজ দিয়েছে। জমিতে রোপনের পরই সমস্যা দেখা দিলে তাদের জানানো হলেও বিভিন্ন ছালচাতুরির আশ্রয় নেয়। ক্ষতিপূরণের কথা বলে আমাদের ৫ হাজার টাকা করে কুড়া প্রতি খরচ দিয়েছে। অথচ আমাদের রোপণে খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকার বেশি।
কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, জমিতে বীজ রোপণের পরই ধান এসে যাওয়ায় ডিলারকে জানাই। পরে তারা এসে আমার জমিসহ সবার জমির ভিডিও করে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমরা মুর্খ মানুষ, আমাদের পাশে কৃষি অফিসের থাকার কথা থাকলেও তারা ডিলার আর বীজ কোম্পানির পক্ষ নিয়ে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করেছে।
জমি থেকে ধান তুলে ইকবাল মুন্সি বলেন, গতবার ধানচাষ করে ৪০ মণ ধান পেয়েছিলাম। এ বছর বীজ ডিলার নাসির উদ্দিন সরদার জোর করে এই কোম্পানির ধান চাষ করতে বলেন। এরপরে বীজে আগে ধান চলে আসায় কৃষি বিভাগসহ ডিলারকে জানালে তারা পাঁচ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। অথচ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
অভিযুক্ত ডিলার নাসির উদ্দিন সরদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে তার দোকানে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান থেকে পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমেল আল ইসলাম বলেন, কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে ঘটনার সততা পেয়েছি। আমি ডিলারকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছি। ডিলার ৬৩ শতাংশ জমির অনুকূলে ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে। বীজ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।









