মোঃ মহিম ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট): সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিষিদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে ৪টি ডিঙ্গি নৌকা এবং শুটকির মাচা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আজ বুধবার সকালে চাঁদপাই সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান, প্রতিদিনের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া খাল এলাকায় অভিযানে নামে বন রক্ষীদের একটি দল। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে খালের ভেতরে সন্দেহভাজন ৪টি ডিঙ্গি নৌকার গতিবিধি লক্ষ্য করেন তারা।
বন বিভাগের স্পিডবোট ও নৌকাগুলোকে এগিয়ে আসতে দেখে ডিঙ্গি নৌকার আরোহীরা দ্রুত দিক পরিবর্তন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে দুষ্কৃতকারীরা নৌকাগুলো নদীর তীরে রেখে লোকালয়ের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন রক্ষীরা পরিত্যক্ত নৌকাগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং শুটকির মাচা তৈরি করার জন্য আনা বিপুল পরিমাণ বাঁশ,কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:২৫ মিনিটের মধ্যে জব্দকৃত সমস্ত মালামাল ও ৪টি ডিঙ্গি নৌকা উদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতী চক্রটি নৌকা রেখে পালিয়ে যায়। নৌকাগুলো তল্লাশি করে আমরা সুন্দরবনে মাছ ধরা ও শুটকি মাচা করার সরঞ্জাম পেয়েছি। জব্দকৃত নৌকা ও মালামাল বর্তমানে অফিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ, ১ জুন থেকে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ এলাকায় যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। পলাতক অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।









