হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা): আমতলী পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফ এর নির্মানাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৪২) নামে এক রাজমিস্ত্রী ও তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে জাফর হাওলাদার (৪৫) নামে এক ওয়ার্কশপ মালিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকেই নির্মানাধীন ভবনের মালিক আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফ আত্মগোপনে রয়েছেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত জাহিদুল হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে এবং ওয়ার্কশপ মালিক জাফর হাওলাদার চাওড়া ইউনিয়নর গিলাতলী গ্রামের মৃত্যু ইউনুছ হাওলাদারের ছেলে।
জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফ এর নির্মানাধীন ভবনে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছেন মো. জাহিদুল হাওলাদার। তিনি গত ১৩ মে ভবনের মাটির নীচে একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢালাই করেন।
বুধবার সকালে জাহিদুল ওই সেপটিক ট্যাঙ্কের সাটারিং খোলার জন্য ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রবেশ করার কিছুক্ষনের মধ্যে ভিতর থেকে তার গোঙ্গানির আওয়াজ শুনতে পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন সেখানে উপস্থিত জাফর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. জাফর হোসেন হওলাদার। ভিতর প্রবেশ করার পর সেও অচেতন হয়ে পড়েন।
প্রতিবেশী মশিউর রহমান আমতলী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জাফর ও জাহিদুলকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনার পর থেকেই নির্মানাধীন ভবনের মালিক মাওলানা মো. ইউসুফ আত্মগোপনে চলে গেছেন। বন্ধ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও।
আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এর ওয়ার হাউজ পরিদর্শক মো. হানিফ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ট্যাঙ্কি ভেঙ্গে জাহিদুল ও জাফরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক লুনা বিনত হক বলেন, হাসপাতাল আনার পূর্বেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ট্যাঙ্কির ভিতরে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদৎ মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজ বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।








